থাইরয়েড বিভাগ

থাইরয়েড বিভাগ নিনমাস এর একটি অন্যতম প্রধান শাখা। এই শাখায় থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ টেকনোলজিষ্টগণ গলগন্ড, থাইরোটক্সিকোসিস ও থাইরয়েড ক্যান্সারসহ থাইরয়েডের সব ধরনের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। প্রকৃতপক্ষে এই থাইরয়েড বিভাগ দেশের সর্ব বৃহৎ থাইরয়েড সেন্টার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু রোগী চিকিৎসকগনের রেফারেন্সে থাইরয়েড বিভাগের সেবা নিতে আসেন। রোগী দেখা ছাড়াও এই বিভাগ থেকে থাইরয়েডের ওপর বিভিন্ন গবেষণামূলক কাজ করা হয়।

থাইরয়েড সংক্রান্ত রোগসমূহঃ
১. হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism)
২. হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism)
৩. থাইরয়েডের সকল প্রকার ক্যান্সার সমূহ
৪. থাইরয়েডের প্রদাহ সংক্রান্ত রোগ (Thyroiditis)

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় ঔষধের ব্যবহারের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞাঃ
১. গর্ভবতী মহিলা
২. বুকের দুধ দানকারিনী মা
৩. কনট্রাষ্ট সিটি স্ক্যান (Contrast CT Scan) হওয়া ও লেভোথাইরক্সিন (levothyroxine) ঔষধ খাওয়া অবস্থায় রেডিও আয়োডিন দিয়ে চিকিৎসা করাতে দুইমাস অপেক্ষা করতে হবে।

থাইরয়েড রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সমূহঃ
১. থাইরয়েড আপটেক (Uptake) পরীক্ষাঃ
এই পরীক্ষার ন্যূনতম পরিমানে (৫-১০ মাইক্রোকিউরি) রেডিওআয়োডিন রোগীকে মুখে খাওয়ানো হয়। পরবর্তী ২ ঘন্টা ও ২৪ ঘন্টা পর আপটেক যন্ত্রের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা গণনা করা হয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রহ্নির কার্যক্ষমতা নির্নয় করা হয়।

২. থাইরয়েড স্ক্যান (Scan):
এই পরীক্ষায় ২ মিলিকিউরি টেকনিশিয়াম রোগীর শিরায় ইনজেকশনের মাধ্যমে দেয়া হয এবং ২০ মিনিট পর থাইরয়েড স্ক্যানের মাধ্যমে থাইরয়েডের আকার ও আয়তন, কার্যক্ষমতা, থাইরয়েড জন্মগত সমস্যা এবং অস্ত্রপচারের পর অবশিষ্ট থাইরয়েড টিস্যুর পরিমাণ নির্ণয় করা হয়। প্ল্যানার গামা ক্যামেরার সাহায্য রোগীর থাইরয়েডের ছবি নেয়া হয়।

৩. আল্ট্রাসনোগ্রাম (Ultrasonogram) থাইরয়েডঃ
এই পরীক্ষায় ৫-১০ মেগাহার্জ (MHz) প্রবের মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থির আকার ও আয়তন বোঝা যায় এবং গ্রহ্নির গঠনগত ত্রুটিগুলো নির্নয় করা হয়।

৪. থাইরয়েডের হরমোন সমূহের পরীক্ষা:
থাইরয়েডের হরমোনসমূহের মধ্যে T3, T4, TSH, FT3, FT4, Tg, TPO I AntiTgAb পরীক্ষাগুলো রক্তের মাধ্যমে দেখা হয়।

থেরাপীর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবাঃ
১) হাইপারথাইরয়েডিসম (Primary Hyperthyroidism) রোগীর I-131 থেরাপীর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং পরবর্তী জীবনব্যাপী এ রোগ সংক্রান্ত পর্যবেক্ষনের দায়িত্ব নেয়া হয়।
২) থাইরয়েড ক্যান্সার (Thyroid Cancer): রোগীর I-131 থেরাপীর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং পরবর্তী জীবনব্যাপী পর্যবেক্ষণ করা হয়।

রোগীর ফাইল সংরক্ষণঃ
রেডিওআয়োডিন থেরাপী পেয়েছে এ রকম রোগীর ফাইল ১৯৮০ সালের প্রথম রোগী থেকে আমাদের থাইরয়েড আর্কাইভ/রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত আছে। এইসব রোগীদের জীবনব্যাপী থাইরয়েড সংক্রান্ত কনসালটেশন করা হয়। এ পর্যন্ত ৫০০০ এর অধিক সংখ্যক ক্যান্সার রোগী এবং ৬০০০ এর অধিক সংখ্যক হাইপারথাইরয়েডিজম রোগীকে রেডিওআয়োডিন থেরাপী দেয়া হয়েছে।

রেডিওআয়োডিন থেরাপীর মাত্রা ৩০ মিলিকিউরি (30mCi) অথবা তদূর্দ্ধ হলে রোগীকে এককভাবে ৫ থেকে ১০ দিন হাসপাতালে রাখতে হয়।
সেই সময়ে রোগীকে নিম্নলিখিত নিয়মাবলী মেনে চলতে হয়ঃ
১. কমপক্ষে ৫-১০ দিন হাসপাতালে সংযুক্ত বাথরুমসহ আলাদা কেবিনে একাকী থাকতে হবে।
২. রোগী প্রচুর পানি পান করবেন ও বার বার প্রস্রাব করবেন। পানি শরীরের অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তা দ্রুত কমাতে সাহায্যে করবে।
৩. টক জাতীয় খাবার মাঝে মাঝে চুষে খাবেন।
৪. থুতু, বমি, প্রস্রাব,মল টয়লেট প্যানের ভিতরে ফেলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
৫. কখনও কক্ষ বা কেবিন থেকে বাইরে আসবেন না। প্রয়োজনে টেলিফোন ব্যবহার করুন।
৬. রোগীর ব্যবহৃত কোন জিনিসপত্র কক্ষ বা কেবিনের বাইরে নেয়া যাবে না। ছুটির দিন সব জিনিস নিয়ে যাবেন।
৭. কোন গর্ভবতী মহিলা বা শিশু রোগীর কাছে যেতে পারবেন না। শুধুমাত্র একজন বয়স্ক ব্যক্তি রোগীর প্রয়োজনে সর্বাধিক ৫ মিনিট তার সাথে থাকতে পারবে তবে কোন অবস্থাতেই একজন ব্যক্তি ২৪ ঘন্টায় ৩ বারের বেশী রোগীর কক্ষে প্রবেশ করবে না।