সিন্টিগ্রাফী বিভাগ

এই বিভাগে আধুনিক গামা ক্যামেরা ব্যবহার করে রেডিও আইসোটোপের সাহয্যে অস্থি, কিডনী, লিভার, ব্রেস্ট, হৃদযন্ত্র, মস্তিস্ক, ফুসফুস সহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের রোগ ও কার্যকারিতা সঠিকভাবে নিরুপন করা হয়।
নিম্নে পরীক্ষাসমূহের নাম পেশ করা হলঃ
• Imaging of skeletal system (Bone Scan) • Parathyroid imaging
• Lymphoscinitigraphy
• Radiocolloid Liver, biliary tract and gastrointesinal tract imaging
• Gastro-intestinal tract scintigraphy, Gastro-intestinal bleeding
• Meckel's diverticulum study
• Salivary gland imaging
• Central Nervous System Imaging
• Cisternography

পরীক্ষা প্রনালীঃ
১. Bone Scan: নৈমিত্তিক নিউক্লিয়ার মেডিসিন পরীক্ষা সমূহের একটি বড় অংশ বোন স্ক্যান দখল করে আছে। হাড়ে বিভিন্ন রকমের ক্যান্সার ছড়ানোর ক্ষেত্রে বোন স্ক্যান অন্যান্য তেজস্ক্রিয় পরীক্ষা নিরীক্ষাগুলোর (X-ray/CT) চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল । বোন স্ক্যানের মাধ্যমে হাড়ে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিয়মিত ফলোআপ, ওস্টিওমাইলাইটিস, সেলুলাইটিস এর মধ্যে পৃথকীকরণ, হাড়ের কার্যকারিতা, হাড়ের এভাসকুলার নেক্রোসিস সনাক্তকরণ, স্ট্রেস ফ্র্যাকচার, প্রোসথেসিস মূল্যায়ন এবং বায়োপসির স্থান নির্নয় করা হয়। এই পরীক্ষায় রোগীকে 99mTc MDP 10-20 মিলিকিউরি দেয়া হয়।

২. HIDA স্ক্যান (হেপাটোবিলিয়ারী স্ক্যান): এ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্মগত যকৃতনালী/বিলিয়ারী ট্র্যাক্ট এর সমস্যা বা ত্রুটি নির্ণয় করা হয় (বিলিয়ারী এট্রেশিয়া)।

৩. প্যারাথাইরয়েড স্ক্যান (Parathyroid scan): অস্বাভাবিক প্যারাথাইরয়েড ত্রুটি কার্যকারিতা নির্ণয়ে এ পরীক্ষাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্যারাথাইরয়েড ত্রুটির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নির্ণয় করা যায়।

৪. Lymphoscintigraphy (লসিকাতন্ত্রের স্ক্যান): টেকনিশিয়াম লেবেলড ন্যানোকলোয়েডের মাধ্যমে লসিকাতন্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে লসিকাতন্ত্রের বাধাপ্রাপ্ত জনিত কারনগুলো পৃথক করা যায়। মাথা এবং ঘাড়ের অন্যান্য ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষাটির গুরুত্ব রয়েছে।

৫. সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম ইমেজিং (স্নায়ুতন্ত্রের পরীক্ষা): প্ল্যানার ব্রেইন ইমেজিং/ব্রেইন স্পেক্ট স্নায়ুতন্ত্রের পরীক্ষার ক্ষেত্রে অন্যান্য রেডিওলজি সংক্রান্ত (সিটি এবং এমআরআই) পরীক্ষা নিরীক্ষার চেয়ে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। বিভিন্ন ধরনের তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে ব্রেইনে রক্ত সরবরাহের পরিমাণ ও গতিবিধি পরিমাপ করা যায়। এ ছাড়া SPECT এর মাধ্যমে ব্রেইনে টিউমার, খিচুঁনী , আঘাতজনিত জটিলতা, বার্ধক্যজনিত ও অন্যান্য কারণে ভুলে যাওয়ার কারন এবং অস্বাভাবিক মানসিক অবস্থাজনিত রোগগুলো নির্ণয় করা যায়। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ নিউরোসার্জন এর অনুরোধে সিস্টারনোগ্রাফী, ব্রেইন সি.এস.এফ (সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড) এর অস্বাভাবিকতাও নির্ণয় করা হয়।

৬. পরিপাকতন্ত্র ও যকৃতের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিন এর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদেরও খাদ্যনালীর রক্তক্ষরণ জনিত কারন নির্ণয় করা যায়। যকৃতে বিভিন্ন ধরনের রোগ, টিউমার, ক্যান্সার, সিরোসিস নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ভূমিকা রাখে।